Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

শ্যামনগরের লবণাক্ত এলাকায় সুপেয় পানির স্বস্তি, মিলছে মিষ্টি পানি

জেলা প্রতিনিধি

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট কাটতে শুরু করেছে। লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ পানির চরম ভোগান্তিতে থাকা উপকূলের বাসিন্দাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। এ সংকট নিরসনে উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালি গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে দুটি রিভার্স অসমোসিস (আরও) পানি শোধনাগার। সৌরবিদ্যুৎচালিত এসব প্ল্যান্ট থেকে এখন বাড়ির কাছেই মিলছে সুপেয় পানি, ফলে অবসান ঘটেছে দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের।

সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগরের উপকূলীয় গ্রাম খাগড়াঘাট ও কৈখালিতে চারপাশে পানির প্রাচুর্য থাকলেও লবণাক্ততার কারণে তা পান অনুপযোগী। পুকুর ও নলকূপের পানিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাওয়ার যোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে এক কলস মিষ্টি পানির জন্য নারী ও শিশুদের দূর-দূরান্তে ছুটতে হতো।

জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। তাদের অর্থায়নে শ্যামনগরের এই দুই গ্রামে বসানো হয়েছে দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস বা আরও প্ল্যান্ট। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর থেকেই প্ল্যান্ট দুটি থেকে নিয়মিত পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা।

পরীক্ষাগারেও শোধনাগার দুটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালির পানিতে শোধনের আগে মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ বা টিডিএস (TDS) ছিল প্রতি লিটারে ৮ হাজার ২১৭ মিলিগ্রাম, যা শোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ মিলিগ্রামে। 

অন্যদিকে, খাগড়াঘাটে টিডিএসের পরিমাণ ৪ হাজার ৮১ থেকে কমে নেমে এসেছে ৯২ মিলিগ্রামে। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখতে প্রতি লিটার পানির ব্যবস্থাপনা খরচ মাত্র ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট দুটি উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠানটির সিএসআর প্রধান ফেরদৌস ফয়সাল এবং বারসিক উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রতিনিধি/এলএ