Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ নুর আলম, পুলিশ হেফাজতে রিসোর্ট ম্যানেজার

জেলা প্রতিনিধি

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) ও তার পাঁচ বছরের ছেলে ফাইজান আহমেদ। বেড়াতে এসে আর বাড়ি ফেরা হলো না মা-ছেলের। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাটোয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে আগুন লাগার পর তারা ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মৃত ফারিয়া কবীর চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামী নুর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার। চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে চুয়াডাঙ্গায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ফারিয়ার গ্রামের বাড়ি বরিশালে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

নুর আলম বলেন, গত ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশে তারা কক্সবাজারে যায়। সেখানে আমার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছেলে ছিল। আমি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি। তাদের কাছ থেকে শুনেছি, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রী ও ছেলে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব?

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৪ অক্টোবর স্বামী-সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন ফারিয়া। তিন দিন পর শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফারিয়া ও তার ছেলে বের হতে পারেননি। পরে রিসোর্টের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলটি নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে।

খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতর থেকে একে একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। তবে রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তখন সতর্ক করার পাশাপাশি নোটিশও দেওয়া হয়। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চলছিল।

ম্যানেজার পুলিশ হেফাজতে
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ম্যানেজার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অনুমোদন এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এলএ