জেলা প্রতিনিধি
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে খুলনা জেলা ও মহানগরের ৩৯৪টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি-৬)। টহল জোরদার, অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) খুলনার ধর্মসভা মন্দিরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৩ অক্টোবর থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসআরবি-৬-এর দায়িত্বপূর্ণ আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগরে ৩৯৪টি মণ্ডপে পূজার কার্যক্রম চলছে। নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পূজামণ্ডপগুলোকে প্রথমে জেলাভিত্তিক এবং পরে উপজেলাভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা। তারা নিজ নিজ এলাকার টহল দলের কার্যক্রম সমন্বয় করছেন এবং পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে অধিনায়ক জানান, তিনটি স্তরে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রথম স্তরে টহল দল সরাসরি মণ্ডপ পরিদর্শন করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। তৃতীয় স্তরে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স।
তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজা ঘিরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব, উসকানিমূলক প্রচার কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা বিবেচনায় সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসআরবি সদর দপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় এ বছরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবারের পূজার কার্যক্রম শেষ হবে।
প্রতিনিধি/এলএ