জেলা প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মাদক, চোরাচালান, ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে লেখালেখিতে সোচ্চার ছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)। গণমাধ্যমের পাশাপাশি নিজের ফেসবুক পেজে এসব নিয়ে নিয়মিত লেখালিখি করতেন। এতেই স্থানীয় প্রভাবশালী ও অপরাধীদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন তিনি।
আগেও কয়েক দফা তার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সেসময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে জখম হন। তবে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি দোকানের পাশে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকও মৃত ঘোষণা করেন।
রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, সাংবাদিক আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল- যা ময়নাতদন্তের সময় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আলিফ ফকির ‘রূপসী বাংলা টিভি’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন।
তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। থাকতেন পাশের দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে। তার প্রান্থি নামে চার বছর বয়সী মেয়ে ও আইয়ান সাফয়ান নামে দেড় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। তার মৃত্যুর পর দুই শিশুকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন আনন্দিতা সাংমা।
প্রত্যক্ষদর্শী রবীন রাংসা বলেন, ‘আলিফ ফকির আমার দোকানে সিগারেট নিতে আসে। যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন রেখে চলে যায়। এরপর আবার ফোন নিতে আসে। মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার সময় দুজনও পেছন দিয়ে যায়। পরেই আমি গুলির শব্দ শুনি। ভয় পেয়ে আমিও দোকানের ভেতরে চলে যাই।’
নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বলেন, ওই দিন রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আলিফ বলে গেছে- বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে দেখি, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের কঠিন শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি ও কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নানা আলমাত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এলএ