Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

শেরপুরে ‘মুষ্টির চালে’ পিছিয়েপড়া নারীদের দুর্গোৎসবের আয়োজন

জেলা প্রতিনিধি

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

শেরপুর শহরের সজবরখিলা-সাতানিপাড়া এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পিছিয়েপড়া আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। আর্থিক টানাপোড়েনকে পেছনে ফেলে নিজেদের জমানো ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে সম্বল করে তারা আয়োজন করেছেন দুর্গাপূজার। প্রতিদিনের রান্নার চাল থেকে এক মুষ্টি করে জমিয়ে সেই চাল বিক্রির অর্থেই মূলত এ উৎসবের ব্যয় নির্বাহ করছেন তারা।

‘উমা সংঘ ক্লাবের’ ব্যানারে আয়োজিত এ পূজায় ফুটে উঠেছে নারীদের সামাজিক মেলবন্ধন ও আত্মবিশ্বাসের চিত্র। 

সংগঠনের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস জানান, সীমিত বাজেটের কারণে বড় পরিসরে জাঁকজমক করা সম্ভব না হলেও নারীদের আত্মপ্রচেষ্টায় এবার টানা তৃতীয়বারের মতো তাদের এ পূজার আয়োজন সম্পন্ন হলো। শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের এ পরিবারগুলোর উৎসব উদযাপনের স্বপ্নপূরণে ২৩ সদস্যের ‘উমা সংঘ’ গঠিত হয়। এরপর মহল্লার ৪২টি পরিবারকে যুক্ত করে প্রতিদিন ১ মুষ্টি চাল জমানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা।

বছরজুড়ে সংগ্রহ করা সেই চাল বিক্রি করে জমানো প্রায় ৬০ হাজার টাকা দিয়ে শারদীয় আয়োজনের প্রাথমিক তহবিল তৈরি হয়। ঘাটতি পূরণে স্থানীয় সচ্ছল ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই শহরের পালপাড়া থেকে প্রতিমা এনে মণ্ডপে স্থাপন, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাসহ মহাষষ্ঠীর আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।

নারীদের এই অনুপ্রেরণাদায়ক পদক্ষেপে যুক্ত হয়েছেন এলাকার তরুণ সমাজ ও স্থানীয় পুরুষরাও। উমা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুমিতা বিশ্বাস জানান, তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কেবল তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ই নয়, বরং সাহা ও ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্যসহ সব স্তরের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে উৎসব করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় আদিবাসী প্রতিনিধি বিদ্বান বিশ্বাস নারীদের এ অদম্য সাহসের প্রশংসা করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। 

অন্যদিকে, শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার জানান, নারীদের এই স্বাবলম্বী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এই মণ্ডপে সরকারি অনুদান তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংকল্প ও সদিচ্ছা থাকলে সব বাধাই জয় করা সম্ভব— শেরপুরের এই নারীরা সেটিই প্রমাণ করে দেখালেন।

প্রতিনিধি/এলএ