জেলা প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
সারা দেশের মতো সিলেটেও শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেটে জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি, বিজিবি মোতায়েন পুলিশি টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ১৫২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ জন্য ৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-৯ ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে।
বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন জানান, বিজিবি সিলেট সেক্টরের আওতাধীন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ১ হাজার ৮০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১০৯টিসহ মোট ১৫২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট মহানগরে চার স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এ ব্যবস্থার আওতায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, মহানগরে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন দুই শতাধিক ট্র্যাফিক পুলিশ সদস্য। পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। যে-সব ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে, সেগুলো পূজার আগেই সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ ছাড়া, নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিলেট সদর উপজেলার ১৩০টি পূজামণ্ডপে ৮৩৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা গ্রুপে ঘটনার তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় এবার ৪৭৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪৮টি সার্বজনীন এবং ২৬টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ। অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে ১৬৫টি মণ্ডপে।
বিপুলসংখ্যক পূজামণ্ডপে উৎসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজার পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, পূজা উদযাপন কমিটির সহযোগিতা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার সমন্বিত উদ্যোগে সিলেটে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
প্রতিনিধি/ এজে