১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
শীতের আগমনী বার্তা এখনও পুরোপুরি জানান দেয়নি প্রকৃতি। এরই মধ্যে শিমের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ। লতানো গাছে ফুটেছে ফুল, ঝুলছে থোকায় থোকায় শিম। আগাম জাতের এই শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে প্রতিকেজি শিম ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরে খুশি তারা। ভালো ফলন আর তুলনামূলক কম খরচে আগাম শিম চাষ এখন এ গ্রামের কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ছয় নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে গেলে চোখে পড়ে আগাম শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক আবাদ। গ্রামের অধিকাংশ জমিতেই এখন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কেউ শিম তুলতে ব্যস্ত, কেউ পরিচর্যা করছেন ক্ষেতের। আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগাম আলু চাষের। এক ফসলের জমি থেকে আরেক ফসলে যাওয়ার এই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে মাচা ও লতানো গাছে ঝুলছে শিম। কৃষকরা ক্ষেত থেকে তাজা শিম তুলে বাজারজাত করছেন। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে স্থানীয় বাজারে এসব শিম বিক্রি হয়। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও ক্ষেত থেকে শিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাইরের বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে ঘুঘুডাঙ্গার আগাম শিম।
এ গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন। প্রায় এক মাস ধরে ক্ষেত থেকে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় তার মুখে এখন স্বস্তির হাসি। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে শিমের দাম কিছুটা কমেছে।
মুক্তার আলী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছি। গত এক মাস ধরে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছি। প্রথম দিকে প্রতিকেজি শিম ২০০ টাকা দরেও বিক্রি করেছি। তবে এখন দাম কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি হয়েছে। শীতের আগেই শিম আবাদ করে ভালো লাভ পেয়েছি।’

কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতিবছর আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হয়। এ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকে। আবার আগাম সবজির দামও ভালো পাওয়া যায়। এখন আউশ ধান কাটার পর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, ‘আগাম জাতের সবজি চাষে ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সার ও কীটনাশকের সুষম প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে আগামী দিনে আগাম শিমসহ অন্যান্য আগাম সবজির চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’