জেলা প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের মেডিসিন, শিশু ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ। এদিকে শয্যা ও ওষুধের সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জনের বেশি।
হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ওয়ার্ডগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। হামের রোগীদের জন্য ১৫টি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৬টি শয্যা থাকলেও প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। ফলে রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
চিকিৎসা নিতে এসে পর্যাপ্ত শয্যা না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, রোগীর চাপ বাড়লেও সেই তুলনায় শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।
সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও শয্যার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। জায়গার অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহার জরুরি হলেও অনেকেই তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে খোলা বারান্দায় মশার কামড়ের ঝুঁকি নিয়েই সময় কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। এ ছাড়া শতাধিক রোগীর সেবা কার্যক্রমে মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম থাকায় সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বারান্দায় মশারি ছাড়াই থাকতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের। পাশাপাশি নার্সদের কাছ থেকে সময়মতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে সংক্রমিত হয়ে শেরপুরে এসেছেন। একই সঙ্গে জেলাটিতেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে।
এদিকে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসনকে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি থাকায় রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় এ পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে পৃথকভাবে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সামর্থ্য অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকেই শেরপুরের বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জেলার অভ্যন্তরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
প্রতিনিধি/ এজে