Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বেনাপোলে ৯ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

উপজেলা প্রতিনিধি

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করছেন একদল নারী। পাশেই কেউ তৈরি করছেন হস্তশিল্পের পণ্য, কেউ শিখছেন কুটিরশিল্পের কাজ। তাদের প্রত্যেকের চোখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় করবেন, সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করবেন- এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলে গ্রামের নারীদের এই স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে আলোকিত নারী কল্যাণ সংস্থা।

সংস্থাটির উদ্যোগে বেনাপোল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে নয়টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০ থেকে ৭০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দর্জি প্রশিক্ষণ, কুটিরশিল্প ও হস্তশিল্পের মতো আয়বর্ধক কাজ শেখানো হচ্ছে তাদের। সংস্থাটির লক্ষ্য, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের দক্ষ করে তোলা এবং তাদের উপার্জনের পথ তৈরি করা।

শার্শা উপজেলার ভূমি অফিসার নিয়াজ মাখদুম বলেন, নারীদের এগিয়ে নেওয়া মানে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সংসারের ব্যয় নির্বাহেও স্বামীকে সহযোগিতা করতে পারবেন। এতে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগও তৈরি হবে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে এর সুফল পুরো সমাজ পাবে।

nari2

আলোকিত নারী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোস্তাফিজ জোহা সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগমের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এই কার্যক্রম। সংগঠনটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করছেন শার্শা উপজেলায় সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি আজিজুল হকও।

সংগঠনটির কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য গ্রামের এমন নারীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, যারা নানা কারণে কাজ শেখা কিংবা আয় করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন, নিজেদের উদ্যোগে পণ্য তৈরি করতে পারবেন কিংবা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে পরিবারের আয়ে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

একজন নারী আয় করতে শুরু করলে তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। সংসারের খরচ মেটানো, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অর্থের জোগান দিতে তার ভূমিকা বাড়ে। নিজের উপার্জন থাকলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, সামাজিক অগ্রগতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

nari

তবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নারীরা নিয়মিত আয় করতে পারছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজের উপকরণ, স্বল্প পুঁজির ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার তৈরি করা গেলে এই উদ্যোগের সুফল আরও বাড়বে। স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রির সুযোগ কিংবা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা তাদের দক্ষতাকে স্থায়ী আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারবেন।

বেনাপোলে নয়টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের এই উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রশিক্ষণকে বাস্তব কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এসব কেন্দ্র থেকে আরও অনেক নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাদের সেই অগ্রযাত্রা পরিবারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিনিধি/এসআই