জেলা প্রতিনিধি
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
মাদারীপুরে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এরই মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। তবে দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শহরের পুরান বাজার এলাকার প্রধান পাইকারি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবজির দোকান। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সবজি কিনতে এসেছেন। তবে বাড়তি দামে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তাদের অনেকে। বিক্রেতা ও আড়তদারদের দাবি, একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজির দামে।
_Pic_(8)_20261016_102042387.jpg)
জানা গেছে, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, গাজর, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি মাদারীপুরের পাইকারি আড়তে আনা হয়। আড়তদারেরা এসব সবজি পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে পাইকারদের কাছ থেকে সবজি কিনে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতারা। এভাবে কয়েক ধাপে হাতবদল হয়ে পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়। বিক্রেতাদের ভাষ্য, পরিবহন খরচ কমলে সবজির দামও কমতে পারে।

আড়তদারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা, আদা ১৭০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আলু ১৭ থেকে ১৮ টাকা, পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা, পটল ৩৬ টাকা, বেগুন ৭৫ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “জেলার সব পাইকারি বাজারেও শাকসবজির বাড়তি দাম। শুধু দাম বেড়েই যায়, কিন্তু কখনোই কমে না। এটি দেখার যেন কেউই নেই। কী করব, আমাদের তো কিনে খেতেই হবে। আমরা ক্রেতারা অসহায়।”

ব্যবসায়ী ইরফান আহম্মেদ রেজা বলেন, “প্রতিদিনই বাজারে শাকসবজির দাম বেড়েই চলছে। পাইকারি কিনতে গেলে দাম বেশি, বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতে হয়। আমরা চাই বাজার স্থিতিশীল থাকুক। কিন্তু তা কখনোই হয় না।”

আড়তদার বিল্লাল হোসেন বলেন, “পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।”
আবু তালহা বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী বাবুল মাতুব্বর বলেন, “একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা বেড়েছে দাম। আমরা সাধ্যমতো দাম কম রাখার চেষ্টা করছি।”
_Pic_(7)_20261016_102057367.jpg)
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পণ্যের দাম বেশি রাখলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে।”
প্রতিনিধি/এসএস