Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

জেলা প্রতিনিধি

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় কার্যকর করা হয়েছে।

পূজারি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিবা-রাত্রি নিরবচ্ছিন্ন টহল, নিবিড় নজরদারি, বিশেষ মোবাইল টিমের তৎপরতা এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করেছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আওতায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ মোট ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত আরও একটি পূজামণ্ডপকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে-কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশেষ মোবাইল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগান পূজামণ্ডপ এবং মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান, বিজিওএম।

এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পূজার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। এ উৎসব যেন সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার বন্ধের পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় দিন-রাত টহল, নিবিড় নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিশেষ মোবাইল টিম সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পূজা উদযাপন কমিটি, পূজারি, দর্শনার্থী ও সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ৫৫ বিজিবি। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে কিংবা কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা যাচাই না করে প্রচার না করার এবং দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, চোরাচালান, মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধে বাহিনীটি অঙ্গীকারবদ্ধ। জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিজিবি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে পূজারি ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই ৫৫ বিজিবির মূল লক্ষ্য। 

প্রতিনিধি/ এজে