নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল এবং তার ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্নার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় আইভির আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তার ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না এবং আইনজীবী মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, ৫ অগাস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সরকার ও প্রশাসনের আচরণ এবং মানসিকতায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। বরং পূর্বের মতোই দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জিয়াউল ইসলাম কাজল নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। বিগত সময়ে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের জামিন শুনানির সময় তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উদীচীর নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তার ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্নাকে মামলায় জড়ানো এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো সম্পূর্ণ অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে অবিলম্বে এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে উদীচী।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে জিয়াউল ও আতিকুল ইসলামকে এবং শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার বাসা থেকে মাহবুবুর রহমানকে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের একটি দল। বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা পুরোনো একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেছেন, তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে আদালতে।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১২ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবাইয়া রাখা যাবে না।’ তখন আদালত প্রাঙ্গণে তাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় ফাইল হাতে তার পাশে আইনজীবী জিয়াউল ইসলামকে হাঁটতে দেখা যায়। তবে তাকে স্লোগান দিতে দেখা যায়নি।
এদিকে জিয়াউল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীসহ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি বলেন, জিয়াউল ইসলাম ও আতিকুল ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন। তখন জিয়াউল ইসলাম সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ছিলেন। আন্দোলনে সাংস্কৃতিক জোট জোরালোভাবে রাজপথে ছিল।
তিনি আরও বলেন, আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত থাকা কোনোভাবেই কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না। নতুন করে তাদের মামলায় জড়ানো বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই দ্রুত তাদের মুক্তির দাবি জানাই।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কর্মী হিসেবে ওই তিনজন গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
আরএনবি/এফএ