জেলা প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ফরিদপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আকিদুল শেখ (২৫) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাদামাটি রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। আগের বৃষ্টিতে স্কুলে যাওয়ার রাস্তার পাশে পানি জমে ছিল।
এ সময় আকিদুল শেখ শিশুটিকে রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। পরে তাকে রাস্তার পাশের একটি বাঁশবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকেরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ঘটনার কথা শুনে তাঁরা শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
পরে শিশুটিকে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরের ২১ জুন শিশুটির বাবা শংকর কুমার মন্ডল বাদি হয়ে আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
পরে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এএম