Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রাজশাহীতে জাল টাকা দিয়ে স্বর্ণের চেইন ক্রয়, গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ পিএম

রাজশাহী নগরীতে জাল টাকার নোট দিয়ে অভিনব কায়দায় স্বর্ণের চেইন প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপির) মুখপাত্র এডিসি গাজিউর রহমান এসব তথ্য জানান। 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- ঝালকাঠি জেলার সদর থানার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার লড়িবাগ গ্রামের আলফু মিয়া। অভিযান চালিয়ে রাজশাহী ও বগুড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া সাহেব বাজার এলাকায় ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’ নামে স্বর্ণের দোকানে এসে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। ওই সময় তিনি বলেন, আমার 'মেজর স্যারের' মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে স্বর্ণের গহনা কিনতে হবে। প্রথমে তিনি ৭০০ টাকা দিয়ে একটি নাকফুল কিনে নেন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পছন্দ করে জানান যে, পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করে সেটি নিয়ে যাবেন।

পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তি পুনরায় দোকানে এসে সেই স্বর্ণের চেইনটি নিতে চান। দোকানে ওই মাপে চেইন প্রস্তুত না থাকায় তারা পাশের ‘বিশ্বনাথ জুয়েলার্স’ থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেন, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

চেইনটি হাতে নিয়ে ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকার ১১৫টি নতুন নোট দিয়ে দাম পরিশোধ করেন। দোকান মালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের অন্য একটি দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। কিন্তু দোকান থেকে ফিরে এসে মালিকপক্ষ দেখতে পান ওই ব্যক্তি ততক্ষণে পালিয়েছেন। এভাবে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইনটি হাতিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং আরএমপির সিসি ক্যামেরা টিমের সহায়তায় বিভিন্ন পয়েন্টের সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামির সুনির্দিষ্ট গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল স্বীকার করেন যে, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি তিনি ঢাকার খিলক্ষেতের জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক রোমানের কাছে বিক্রি করেছেন। রিয়াজুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘মা জুয়েলার্স’-এ অভিযান চালিয়ে দোকান মালিক রোমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে রাজশাহীর ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’ থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতার রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণ পট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের আরও একটি স্বর্ণের চেইন প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছিলেন। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ বগুড়ায় আত্মসাৎ করা ওই চেইনটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়।

আরএমপির মুখপাত্র এডিসি গাজিউর রহমান জানান, গ্রেফতার রিয়াজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই কৌশলে অভিনব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানা এবং ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এজে