Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সাদাসিধে জীবনযাপন, দুপুরে খান ১৫০ টাকায়: চিফ হুইপ

জেলা প্রতিনিধি

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, যে অফিস থেকে হাসিনা প্রতিদিন দুপুরে সাড়ে ১০ লাখ টাকা খরচ করতেন, বছরে যার ব্যয় ৩৫ কোটি টাকা, সেখানে তারেক রহমান সাহেব ১৫০ টাকায় খাবার খান। তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, দেশের একটি পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় এসে সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 

তারেক রহমানের জীবনযাপন সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ মানুষের হৃদয় দেখে বিচার করবেন। মানুষ মোটা না শুকনা, কালো না ফর্সা, লম্বা না খাটো তা দেখবেন না। তার হৃদয় দেখবেন। আল্লাহর প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস নিয়ে মানুষ মারা গেছে কি না, তা দেখেই বিচার করবেন। 

তিনি আরও বলেন, আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। তিনি মোটা কাপড় পরেন, সাদাসিধে জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ডাল, কুমড়া ভর্তা ও ডিম ভাজি দিয়ে তার সঙ্গে খেয়ে এসেছি। 

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই সুযোগ যদি আমরা নষ্ট করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী না থাকেন এবং অন্য কেউ দায়িত্ব নেন, তাহলে তিনি কি এর চেয়ে ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবেন? 

তারেক রহমানের দেওয়া নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুলে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংসদের একটি বিশেষ সভায় তিনি সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারেক রহমান বলেছেন, কর্মীদের নিয়ে চলতে হবে। ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে কর্মীরা তাঁদের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। এখন তাদের দেখভালের দায়িত্বও নিতে হবে।

চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল, নো সন্ত্রাস। এসব কর্মকাণ্ড ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, মিষ্টি বহিষ্কার হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নির্বাচনে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে দলীয় প্রতীক থাকবে না। ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীকের পরিবর্তে মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। 

তিনি বলেন, মার্কা নিয়ে অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট হয়। সম্পর্ক তৈরি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রতীক তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির বাইরের কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রেও যেন বাধা না থাকে, সেটিই এর উদ্দেশ্য। 

দেশের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার সময় দেশে খাদ্যসংকটের চিত্র তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে দেশের খাদ্যসংকট দূর করেছিলেন এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সেনেগালে খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছিল। 

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্রের অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। ঐতিহাসিকভাবে দেশের কঠিন সময়ে বিএনপির ওপরই দায়িত্ব এসে পড়ে। এবারও তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।

প্রতিনিধি/এএইচ