Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সচিবের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ছয়টি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া।

অভিযুক্ত মজিবুর রহমানের বাড়ি পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফান্দা গ্রামে।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং সাধারণ তহবিলের ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া গত দুই মাসে বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখা থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের বিবরণী (স্টেটমেন্ট) পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ব্যাংক হিসাবের বিবরণী না নিলে টাকা সরানোর বিষয়টি জানতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সচিব আমার স্বাক্ষর জাল করে বেশ কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা গত দুই মাসের প্রায় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যে জমার স্লিপ আমাকে দেখিয়েছেন, তাতেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় সচিবের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে সচিব টাকা উত্তোলন ও ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যান জানান, প্রথমে মৌখিকভাবে ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সচিব মজিবুর রহমানকে তলব করা হয়েছে। সচিব প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সচিব মজিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মতিউর রহমান বলেন, ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে চেকের স্বাক্ষর প্রায় ১০০ শতাংশ মিলে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস