জেলা প্রতিনিধি
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির পাল। এসব হাতিকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার আশায় ভিডিও ধারণ করতে আসা কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় এবং বিরক্তিকর আচরণে ব্যাহত হচ্ছে হাতির স্বাভাবিক চলাচল। এতে মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ভিউ পাওয়া ও কনটেন্ট ভাইরাল করার প্রতিযোগিতায় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বন্যহাতির পেছনে ছুটছেন। অন্যদেরও হাতির কাছাকাছি যেতে উৎসাহিত করছেন তারা। হাতির একেবারে কাছে গিয়ে পটকা ফাটানো, ঢিল ছোড়া কিংবা নানা ধরনের শব্দ করে প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও ঘটছে। পরে হাতির ভয় পাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে ওঠার দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যহাতিকে এভাবে বিরক্ত ও উত্তেজিত করার ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এতে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। একপর্যায়ে হাতির উপদ্রব ও সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এসবি তানভীর আহমেদ বলেন, বন্যহাতির খুব কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ, পাথর নিক্ষেপ কিংবা অন্য কোনোভাবে হাতিকে উত্ত্যক্ত বা উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্যহাতির কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের সংঘাতে ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে মারা গেছে ৩৩টি বন্যহাতি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভিউ বাড়ানো ও কনটেন্ট ভাইরাল করার উদ্দেশে হাতির কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ এবং প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত কমাতে প্রশাসন ও বন বিভাগের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
প্রতিনিধি/এসএস