জেলা প্রতিনিধি
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ফেনীর ফতেহপুরে রেললাইনের পাশের জঙ্গল থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার এনামুল হকের (৫০) মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন। ফলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তার এক সহকর্মী। সব মিলিয়ে এনামুল হকের মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর তার কার্যালয় থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুরে রেললাইনের পাশের একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এনামুল হকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার গলায় শার্ট প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বেলা দুইটায় ফেনী আদালত প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের নগরকান্দা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এনামুল হক ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের নগরকান্দা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফেনী পৌরসভার আলিমুদ্দিন সড়কের মোমেনা ম্যানশনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মৃত্যুর দুই দিন পর, ২৪ ডিসেম্বর সকালে ফেনী আদালত ভবনের নিচতলায় তার কার্যালয়ের একটি ফাইল থেকে চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবেদন দুটি পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তার কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা চিরকুটের লেখার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে পুলিশের এই প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন আদালতের নাজির ও বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন। তার দাবি, এনামুল হককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আলতাফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় এনামুলের প্যান্টে কাদা লেগে ছিল। অন্যান্য আলামত বিবেচনায় নিলেও ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয় না। তার মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যে ঘেরা। উদ্ধার করা চিরকুটে আত্মহত্যার বিষয়ে কিছু লেখা ছিল না; সেখানে অন্য বিষয় লেখা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসায় এনামুল হকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। প্রতিবেদনগুলো পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/এসএস