জেলা প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
নাফ নদী দিয়ে ইয়াবা পাচারে অভিনব কৌশল নিয়েছে চোরাকারবারি চক্র। কাঠের তৈরি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার ব্যবহার করে নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা নিয়ে আসছিল তারা। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পরিচালিত এই ব্যবস্থা অনেকটা ‘ডুবন্ত সাবমেরিনের’ মতো। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দাবি, এই ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন সম্ভব।
সোমবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ ওই ক্যারিয়ার উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে টেকনাফে ৬৪ বিজিবির সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। এ সময় বিজিবির ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানায়, সোমবার রাতে পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘেরে একটি মাচাংঘরের পাশে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসে টহল দলের। তাদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে ঘের ও মাচাংঘরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার উদ্ধার করা হয়। একই রাতে বালুখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করে বিজিবি।

উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, কাঠের তৈরি একটি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ স্টিলের তার, নয়টি কপিকল, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক মোটর। এ ছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে ক্যারিয়ারটি নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হতো। নদী থেকে পালংখালীর ফাইস্যা খাল হয়ে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে ক্যারিয়ারটি টেনে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। খালের আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করতে স্টিলের তার ও কপিকলের বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত চোরাকারবারিরা।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় মাদক পাচারে প্রচলিত পদ্ধতি বদলে নতুন কৌশল নিচ্ছে চোরাকারবারি চক্র। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় পানির নিচ দিয়ে নৌকার সাহায্যে রশি টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছিল বিজিবি।
৬৪ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, চোরাকারবারিরা যতই নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, সীমান্তে মাদক পাচার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবির কড়া নজরদারি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/এসএস