Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দখল হওয়া রেলের জায়গা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে: রেলমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

রেলওয়ের দখল করা জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলমন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, আমরা প্রথমে রেলের জায়গা রেলের প্রয়োজনে, পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাই। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, আমি এখানে দেখেছি, প্রায় ২ হাজার ৪০০টির মতো আবাসন রয়েছে। তবে সেখানে মাত্র ৯০০ জনের মতো লোক আছেন। সেহেতু আবাসনের কোনো সংকট নেই। এখানে পুরোনো ভবনের আবাসন নিয়ে হাউস লোন যে কাটা হয়, সেটার চেয়ে বাইরে কম টাকায় ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ জন্য অনেকে রেলের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন।

তিনি বলেন, রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা পৌরসভা দখল করে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি বিরোধ রয়েছে। সেটি অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আজকের মিটিংয়ে ইউএনও সাহেবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ছিলেন। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যেখানে রেলওয়ের জায়গা দখল রয়েছে, তাছাড়া রেলওয়ে থেকে ব্যক্তি, গোষ্ঠীসহ সব পর্যায়ে জমি লাইসেন্সের ভিত্তিতে এক বছর পরপর পে করতে হয় এবং লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের রেলওয়ের যতটা আমূল পরিবর্তন করা এবং যাত্রীবান্ধব করা সম্ভব, সেটি করব। কারণ, আমাদের রেলযাত্রার ঐতিহ্য যেমন আছে, প্রয়োজনও তেমন আছে। সেটি আরও প্রসারিত করার প্রয়োজন আছে। এটি আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। আমাদের দুটি যে কারখানা আছে, সেগুলোকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সেই লক্ষ্যে এখানে আসা। এখানে কোথাও সমস্যা আছে, আমরা জেনেছি। সম্ভাবনাময় কী আছে, সেটিও জেনেছি।

তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি হতে দেখেছি এবং সেগুলোর মান দেখেছি। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু একটি জায়গায় আমার মনে হয়েছে, আমি, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব একমত হয়েছি, এখানে যে কোচ মেরামত হচ্ছে, সেটি আরও মানসম্মত হতে হবে। এখানে কিছু পুরোনো মেশিন আছে, সেগুলো কোয়ালিটিসম্পন্ন মেশিন। কিন্তু আমরা যেগুলো এখনকার আদলে করতে চেয়েছি, কোচের কিছু অংশ মেরামত করা, জানালা মেরামত করা- সেই জায়গাগুলোতে মানসম্মতভাবে কাজ করতে কী করা যায়, তা দেখতে হবে। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলে প্রায় ৪০০টির মতো কোচ মেরামতের অপেক্ষায় আছে। সেগুলো মেরামত করে আবার সচল করতে আমরা দক্ষ কারিগর নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি।

তিনি রেলওয়ে হাসপাতাল সম্পর্কে বলেন, রেলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিচালনা, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ এবং সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয় বিধায় আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় কীভাবে সেগুলো পরিচালনা করা যায়, তা আমরা প্রতিষ্ঠিত করব।

তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য কারখানা ছিল। এটি একসময় দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা হয়েছে। তখন যে প্রয়োজনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই প্রয়োজন এখনো আছে এবং আরও বেড়েছে। তবে সেভাবে এই কারখানার উন্নয়ন হয়নি। আমি কারখানা পরিদর্শন করে যেটি দেখলাম, আমাদের কোচ মেরামতের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ একসময় ১২ হাজারের মতো তৈরি হতো। এখন সেটি ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে এসেছে। এই যন্ত্রাংশ এখন আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। তবে এখানে অনেক যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিনিধি/এসআই