Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নকলায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে দুই স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি দাবি

জেলা প্রতিনিধি

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

শেরপুরের নকলা উপজেলায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের সম্মানী ভাতা ও ওয়ারিশ সনদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। ভাতার অংশ পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মোছা. হামিদা বেগম। তিনি নিজেকে সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করছেন। তবে সাইফুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাজেদা খাতুন তাদের বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে হামিদা বেগম উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালের ৯ জুলাই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সোহাগ মিয়া নামে এক ছেলের জন্ম হয় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি। আবেদনে বলা হয়েছে, একই বছরের ১২ এপ্রিল সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

হামিদা বেগমের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে ও নবজাতক সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে ঢাকার পুরান পল্টন এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সাইফুল ইসলামের মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতার অর্ধেক, অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা নিজের প্রাপ্য বলে দাবি করছেন হামিদা বেগম।

আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে তার ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকা জমা হয়েছিল। তবে প্রথম স্ত্রীর আপত্তির পর থেকে তিনি আর ভাতার অর্থ তুলতে পারছেন না। নিজের দাবির পক্ষে ভাতার অংশ নিশ্চিত করতে আদালতে সাকসেশন মামলা করেছেন তিনি।

সাইফুল ইসলামের বড় ছেলে সোহেল রানার ভাষ্য, হামিদা বেগম তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সোহাগ মিয়া তার সৎভাই। সোহেল রানার দাবি, পরিবারের জমিজমা বণ্টনের সময় সোহাগ মিয়ার জন্যও নির্ধারিত অংশ রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে টালকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন বুলবুল বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে হামিদা বেগম ও তার ছেলের নামে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, সাইফুল ইসলাম তার প্রতিবেশী ছিলেন। তার জানা মতে, হামিদা বেগম ছিলেন সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাদের সংসারে একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারটি যাতে আইনসম্মতভাবে ন্যায্য অধিকার পায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস