জেলা প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ফেনীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৬ জন। এর মধ্যে চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২০ জনের। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৩ জন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন শনাক্তের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ফেনী সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৩ জন। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ৮৯, দাগনভূঞায় ৭২, ছাগলনাইয়ায় ৪৯, পরশুরামে ২৭ এবং ফুলগাজীতে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৯৭ জন। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৩ জন।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৩ রোগীর মধ্যে ফেনী সদরে ৩৫ জন, দাগনভূঞায় ছয়জন এবং সোনাগাজীতে দুজন রয়েছেন। এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৮৪ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৫৭ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফেনীর চার বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. রোকন উদ দৌলা বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলায় বর্তমানে ৫ হাজার ৩০টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৩ হাজার ৫০৩টি, দাগনভূঞায় ৬৭টি, সোনাগাজীতে ১৪৪টি, ছাগলনাইয়ায় ৪৬৯টি, পরশুরামে ৭৮টি এবং ফুলগাজীতে ১৪৩টি কিট রয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রতিনিধি/এসএস