Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পদ্মায় ইলিশ শিকার, জাজিরায় পাড়েই বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি

১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকার ও নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারের পাশাপাশি পালেরচর, কাথুরিয়া, মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট, নাওডোবা ও বিলাসপুর এলাকায় মাছ বিক্রি হতে দেখা গেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চললেও মৎস্য বিভাগের নিজস্ব স্পিডবোট না থাকায় ট্রলার ভাড়া করে অভিযান চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ বিক্রি হতে দেখা যায়। দুপুরে বিলাসপুর এলাকায় পদ্মার পাড়েও প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় জমে। অন্যদিকে, নদীতে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে মাছ শিকার করতেও দেখা গেছে।

সরকার মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জাজিরার পালেরচর, মাঝিরঘাট, কাথুরিয়া, পৈলান মোল্লা, বড়কান্দি, বিলাসপুর ও নাওডোবাসহ পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কিছু জেলে মাছ ধরার নৌকায় শক্তিশালী ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ ব্যবহার করে পদ্মায় মাছ শিকার করছেন। পরে নদীর পাড়ে এনে সেই মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে। জাজিরা উপজেলায় ৩ হাজার ৩৭৬ জন জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় চাল বিতরণ শেষ হয়েছে। বড় গোপালপুর, বিকেনগর ও সেনেরচর ইউনিয়নে চাল বিতরণ বাকি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব ইউনিয়নে চাল বিতরণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

55020b80-0115-4e02-85df-128e5e0205cb

জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য মৎস্য বিভাগের নিজস্ব স্পিডবোট নেই। প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে পদ্মা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালাতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে অভিযান পরিচালনায় ট্রলার ভাড়া নিতে হচ্ছে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আটজনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। কয়েকটি ট্রলারও আটক করা হয়েছে। এরপরও অবৈধভাবে মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। সোমবার সকালেও বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে।

d6088393-90d0-481a-b221-7ccc03a7e962

ইউএনও আরও বলেন, নদীতে মাছ শিকারের সময় জেলেদের আটক করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এসব কাজে ব্যবহৃত ট্রলারের প্রকৃত মালিকেরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অবৈধভাবে মাছ শিকারে জড়িত ট্রলারের মালিকদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে বলেও জানান ইউএনও। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস