জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
বাবার জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়া নিয়ে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছিলেন মেয়ে। এ নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে পারিবারিক বিরোধ ও সমঝোতার চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে বিরোধের মীমাংসা করা হলে মৃত্যুর প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর বাবার দাফন সম্পন্ন হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০)। তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ১০টায় তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলেও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তা আটকে যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজির উদ্দিন প্রায় এক বছর আগে তার ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেন। এতে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবার মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমির ভাগ নিয়ে বিরোধটি সামনে আসে। একপর্যায়ে তিনি জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানান বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়রা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তাদের আলোচনার পর হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।
হালিমা বেগম বলেন, আমি আমার ন্যায্য অধিকার চেয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিরোধের সমাধানের পর নাজির উদ্দিনের দাফন হয়েছে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধটি সমাধানে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এলএ