জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে হারিয়ে যেতে বসা চিঠি লেখার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’। ‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই উৎসবকে ঘিরে নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও খুদে বার্তার যুগে কাগজে-কলমে মনের কথা প্রকাশের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল তরুণ-তরুণীরা। অনেকের কাছেই চিঠির খাম ও ডাকটিকিটের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল নতুন ও রোমাঞ্চকর।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। উৎসবস্থলে বসেই তারা মা-বাবা, ভাই-বোন, শৈশবের বন্ধু ও প্রিয়জনদের উদ্দেশে আবেগঘন চিঠি লেখে। লেখা শেষে নিজ হাতে সেসব চিঠি কলেজ চত্বরে স্থাপন করা অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেয় তারা।
সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।

উৎসবে অংশ নেওয়া নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন বলেন, ‘আমি কখনো কাগজে-কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সব সময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজের হাতে একটি চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দ যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।’
কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, ‘সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিল প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বার কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনা মূল্যে পাঠাতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।’
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, দ্রুত যোগাযোগের নানা মাধ্যম চালু থাকলেও চিঠির আবেগ ও আবেদন স্বতন্ত্র। নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং ডাক বিভাগের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবাগুলো আধুনিকায়ন করা হয়েছে। স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ধরনের সেবার কারণে ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তারা।
প্রতিনিধি/এসএস