জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের দাফন চট্টগ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। এসময় স্থানীয় বিএনপির বিপুল নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় সাবেক এই ছাত্রনেতাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাউজানের গহিরায় তার নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় আওয়ামী লীগের হাতেগোনা নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি রোববার মধ্যরাতে যখন লাশটি ঢাকা থেকে রাউজান আনা হয়, তখন রোটনের লাশটি গ্রহণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাত থেকে দাফন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রোটনের বাড়িতে অবস্থান করেন।
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের নেতার জানাজায় অংশ না নিতে নানা ধরনের হুমকি শুনতে হয় তাদের। এমনকি যাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসতে না পারে, সেজন্য রাতভর রোটনের বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
যদিও বিষয়টিকে মানবিক বলছে স্থানীয় বিএনপির সমর্থকরা। তাদের দাবি, মানুষ যে দলই করুক- মৃত্যুর পর তার সব দোষ মুছে যায়। তখন শুধুমাত্র একজন মানুষ হিসেবে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।
এ বিষয়ে রোটনের প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন খুব ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
রোটনের দাফনকে কেন্দ্র করে মধ্যরাত থেকেই রাউজানের গহিরায় পুলিশের সবর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে বাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় পাহারায় থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, জানাজায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিলেও কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেফতার করা হয়নি।
শনিবার কোলকাতার একটি হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোটনের মৃত্যু হয়। এরপর রোববার রোটনের লাশটি ঢাকায় আনা হয়। সেখানে একটি জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সরকারদলীয় সমর্থক ও প্রশাসনের আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়, পরে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে রোটনের লাশটি তার রাউজানের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
প্রতিনিধি/এলএ