জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বাবার জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে সমাধানের উদ্যোগ নেন স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০)। প্রায় চার বিঘা জমি তার ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তার ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হালিমা আপত্তি জানান বলে জানা গেছে। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
পরে স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয় ব্যক্তিরা চেষ্টা করছেন।
প্রতিনিধি/এসএস