জেলা প্রতিনিধি
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার, রুপার সামগ্রী ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার হিসাব নির্ধারণে কাজ করছেন জেলা জুয়েলারি সমিতির সদস্যরা। যাচাই-বাছাই শেষে স্বর্ণ ও রুপা নিলামে বিক্রি এবং বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ, পরিমাপ এবং মান যাচাইয়ের কাজ করছেন। পাশাপাশি পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবও করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, ট্রেজারিতে জমা রাখা নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হচ্ছে। স্বর্ণ ও রুপার ওজনের পাশাপাশি সেগুলোর ক্যারেট যাচাই করা হবে। পরে এসব সামগ্রী নিলামে বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সে সময় স্বর্ণের পরিমাণ ছিল ৪১৫ ভরি ১ আনা এবং রুপার পরিমাণ ছিল ১৬৪ ভরি। এসব স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের দান আসে। দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়। এসব অনুদান মসজিদের তহবিলে জমা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এর হিসাব ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার কাজ শেষ হলে এসব সামগ্রীর মোট পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যাবে। নিলাম ও বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়নের পর মসজিদের তহবিলে আরও অর্থ যুক্ত হবে।
প্রতিনিধি/টিবি