জেলা প্রতিনিধি
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
সতিনকে ফাঁসাতে নিজের আড়াই বছরের মেয়েকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মা রহিমা ওরফে টুনি (২৩)। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার রহিমার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
নিহত শিশুটির নাম তানজিমা। সে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুলের মেয়ে। রহিমা একই উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের নুরুল আমিনের মেয়ে। তিনি নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুলের বসতঘরের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শিশু তানজিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে রহিমা তার স্বামী নাজমুল ও সতিন হনুফার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তানজিমা তার নানির বাড়ি চরমান্দালিয়ায় ছিল।
জবানবন্দিতে রহিমা জানান, ঘটনার দিন তার সঙ্গে সতিন হনুফার ঝগড়া হয়। এরপর তিনি নানির বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন। সতিনকে ফাঁসানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় পাড়াতলা গ্রামের পল্টনের পুকুরে তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর শিশুটির মরদেহ স্বামীর বসতঘরের একটি চৌকিতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, আসামিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর