জেলা প্রতিনিধি
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় সরকারের আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে তা সম্পূর্ণ অচল হয়ে আছে। এতে অনলাইন হাজিরা ও দাপ্তরিক যোগাযোগসহ সমস্ত অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
জানা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় গত বছর (২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘অ্যান্ড ইউজার কানেক্টিভিটি’র মাধ্যমে উচ্চগতির ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী সংযোগ স্থাপনের পর প্রায় তিন মাস ধরে সেবা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইন্টারনেট সেবা চালুর পর দাপ্তরিক কাজের গতি অনেক বেড়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস ধরে সংযোগ থাকলেও কোনো ব্রাউজিং বা কাজ করা যাচ্ছে না। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রকল্পের সুফল মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করতে দ্রুত সার্ভার ত্রুটি দূর করে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহাল করা জরুরি, অন্যথায় ব্যাহত হবে প্রাথমিক শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর।
সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অনেক কাজের জন্য ইন্টারনেট অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নতুন করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে।
দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া আলম বলেন, সংযোগ পাওয়ার পর কাজের গতি বাড়লেও বর্তমান অচলাবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রামাশ্রম ও ওড়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও একই অভিযোগ করেন।
শিক্ষক শামীম আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের অনলাইনে হাজিরা দিতে হয়, যা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো লাগে। ইন্টারনেট না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে পকেট থেকে টাকা খরচ করে ব্যক্তিগত ফোনে এমবি কিনে কাজ চালাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুল্লাহ প্রামাণিক বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন স্কুল থেকে ইন্টারনেট সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোর পর আগামী তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্রিক্স আইসিটি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার শওকত হোসেন সুইট বলেন, সার্ভারে কিছুটা সমস্যার কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তিন মাস ধরে সমস্যা চলছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
প্রতিনিধি/টিবি