Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বেশি দামে সার বিক্রি, হাতিয়ায় সরকারি মূল্যের সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরা

উপজেলা প্রতিনিধি

১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও কৃষি অফিসের নানান কারসাজির কারণে নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাসায়নিক সার কেজিপ্রতি ৩টাকা কমিশন ঠিক রেখে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের দাম কেজিপ্রতি ২৪ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

কৃষকদের অভিযোগ, হাতিয়ায় পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ইউরিয়া ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে টিএসপি ও ডিএপি সারেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষক ও সার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ডিলারদের থেকে নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও ‘সার সংকট’, কোথাও ‘সরবরাহ কম’ বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে বাড়তি দাম দিতে রাজি হলে সার দেওয়ার কথা জানান অনেক কৃষক। 

জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারসংলগ্ন এলাকায় জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছিলেন কৃষক বাহার ও জসিম। সারের দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে সেন্টার বাজার থেকে কিনেছি।

বাজারটির দুই বিক্রেতার কাছে বাড়তি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পরিবহন ও অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করেন। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাহাজমারা বাজার, সিডিএসপি বাজার ও সাগুরিয়া এলাকার কৃষকদের কাছ থেকেও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাহাজমারা ও সাগুরিয়া এলাকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, এসব এলাকায় আবাদি জমি বেশি হওয়ায় বিসিআইসি ডিলারদের বরাদ্দ করা সার চাহিদার তুলনায় কম। ফলে চরকিং, নলচিরাসহ অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে সার সংগ্রহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমতি নিতে হয় এবং অফিস খরচের নামে দুই থেকে চার হাজার টাকা দিতে হয় বলে তাদের দাবি।

তাদের আরও দাবি, কোনো কোনো ৫০ কেজির বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত সার কম থাকে। পরিবহন খরচ, আবার সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে বিসিআইসি ডিলাররা প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৪২০ টাকা নিচ্ছেন। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম না নিলে লোকসান হয় বলে জানান তারা। 

বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে বুড়িরচর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নুরনবী শাহীন বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবেই সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তমরোদ্দি ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী আলতাফ হোসেন বিসিআইসি ডিলারদের কার্যক্রমে প্রভাব রাখছেন। কয়েক বছর ধরে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত অফিসের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন বলেও সূত্রটি দাবি করে। এ বিষয়ে আলতাফ হোসেনের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সারের বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত সবুজ বলেন, ‘হাতিয়া একটি দুর্গম এলাকা। বস্তাপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা না নিলে ডিলাররা ব্যবসা করবে না।

তবে অন্য এলাকা থেকে খুচরা বিক্রেতাদের সার সংগ্রহের অনুমতির ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। 

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে আলাদিগ্রাম বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা এনামুল হককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

এসব অনিয়মের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খোঁজখবর নিয়ে অভিযুক্তদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২জন বিসিআইসি ডিলার রয়েছে এবং ৯৯টি লাইসেন্সধারী সাব-ডিলার রয়েছে। এছাড়া ইউরিয়া সার বিক্রয়ের সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত বিক্রেতা রয়েছে প্রায় ৪০ জন।

প্রতিনিধি/এলএ