জেলা প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলায় কথিত পীর রহিমের ‘বালিশ বাবার’ মাজার নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই মাজারে ইসলামবিরোধী কাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে ‘উলামা সমিতি’র ব্যানারে মানববন্ধন পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বীরখারুয়া গ্রামের খৈয়ারপার এলকায় কথিত পীর রহিম বাবার বালিশ পূজা ও ওরস মাহফিলের নামে অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- গফরগাঁও উলামা সমিতির সহসভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন আসাদী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার মাহমুদ, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ উদয়পুরি প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বীরুখারুয়া গ্রামের খৈয়ারপাড় এলাকায় কথিত রহিম বাবার ওরসের নামে ‘বালিশ বাবার’ পূজা, মাদক, জুয়া সকল অনৈসলামিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, সেদিকে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক তদারকি রয়েছে।
গত মার্চ মাসে বীর খারুয়া গ্রামের মোতালেব নামে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর মোতালেবের ছেলে মো. নাজমুল তার বাড়িতে একটি ঘরে খাটের উপর বালিশ স্থাপন করে। তার ওপরে লালসালু কাপড় বিছিয়ে কথিত পীর রহিম বাবার কবরের আকৃতি তৈরি করে। মৃত মোতালেব স্থানীয় চাইরবাড়িয়া বাজারের একজন দর্জি ছিলেন। বালিশ দিয়ে তৈরি কবরের পাশেই নাজমুল তার বাবা মৃত মোতালেবের কবরের উপর ঘর নির্মাণ করেন এবং লালাসালু কাপড় বিছিয়ে মাজারের আকৃতি দেন।
মৃত মোতালেবের পরিবারের লোকজন বালিশ দিয়ে তৈরি কথিত পীর রহিম বাবার কবরে নিয়মিত সিজদা দেয় ও গ্রামের লোকজনকে সিজদা করতে প্ররোচিত করার অভিযোগে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মৃত মোতালেবের কবরের উপর ঘর তৈরি করে মাজার নাম দিয়ে এই মাজার ও তার আশপাশে নিয়মিত ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ, মাদক ক্রয়-বিক্রয়, জুয়ার আসর ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও সপ্তাহের প্রতি সোমবার রাতে ওই মাজারে আসর জমানো হয়।
এদিকে, আগামী সোমবার এই মাজারে কথিত পীর রহিম বাবার ওরস মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজন এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ওরসকে কেন্দ্র করে জুয়া ও মাদকের আসর ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করছে। এই ওরস মাহফিল বন্ধ করা নিয়ে এলাকাবাসী ও মাজার সর্মথকরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
বালিশ বাবার মাজারের প্রতিষ্ঠাতা মো. নাজমুল গণমাধ্যম কর্মীদের দেখেই পালিয়ে যান। যে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মেলা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। যদি মেলা করতেই হয়, তাহলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিনিধি/এলএ