Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কুয়াকাটার সৌন্দর্য রক্ষায় সৈকতে নামলেন ৫০ স্বেচ্ছাসেবক

উপজেলা প্রতিনিধি

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিবেশদূষণ রোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান।

সৈকতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ‘পর্যটনে তারুণ্যের উৎসব’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, কুয়াকাটার প্রধান আকর্ষণ এর বিস্তৃত সমুদ্রসৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উপকূলীয় পরিবেশ। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। তাই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

Dhaka_Mail_(3)

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ সুন্দর ও দূষণমুক্ত থাকলে পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সৈকতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ সৈকত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করবে। কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সদস্য নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে বেড়াতে আসেন। তাদের কাছে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হলে সেই সৌন্দর্য ম্লান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্যটনশিল্পের স্বার্থেই সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সৈকতের পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য সমুদ্রে মিশে সামুদ্রিক প্রাণী ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই সৈকত পরিষ্কার রাখা শুধু সৌন্দর্য রক্ষার বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ উপকূল নিশ্চিত করারও অংশ।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা জরুরি। পর্যটকদের সচেতন করা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কুয়াকাটার সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।

Dhaka_Mail_(2)

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, বিচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং পর্যটক-ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে সৈকতের পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও উপকৃত হবে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম শাহিন, সহকারী অধ্যাপক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

প্রতিনিধি/এসআই