জেলা প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর কড়ইতলা এলাকার মক্তবে পল্লী বিদ্যুতের আর্থিংয়ের তারে জড়িয়ে দেড় বছরের শিশু মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় ডিজিএমসহ চার কর্মীকে আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে ডিজিএম তদন্ত কমিটি করে বিচারের আশ্বাস দিয়ে চার কর্মী নিয়ে মক্তব থেকে বের হলে তাদের মারধর করে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমসহ কর্মীরা ধান ক্ষেত দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় পুলিশ উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পড়ে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে শিশুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে ডিজিএমসহ ৪ কর্মী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের লাঞ্ছিত করে।
নিহত ওই শিশুর বাবার নাম রাজিব মোল্লা। তার বাড়ি গফরগাঁও উপজেলায়। নানার বাড়িতে ওই শিশুকে রেখে স্বামী স্ত্রী গাজীপুরে পোশাক কারখানার কাজ করেন।
নিহত শিশুর নানা আব্দুর রহমান ক্বারী জানান, মক্তব্যের পল্লী বিদ্যুতের মিটার নষ্ট থাকায় স্থানীয় রফিকুল ইসলামকে মিটারটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। রফিক পল্লী বিদ্যুতের মিটারটি মেরামত করার সময় আর্থিং তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মিটারটি মেরামত করে দেন।
সকাল ৭টার দিকে বাড়ির সাথে মক্তবে অন্যান্য শিশুদের সাথে যায় মরিয়ম। খেলার ছলে শিশু মরিয়ম মিটারের আর্থিং তারে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হই। পল্লী বিদ্যুতের দালালের কারণে আমার নাতির মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার নাতি হত্যার বিচার চাই।
ফুলবাড়ীয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিশীথ কুমার কর্মকার জানান, উত্তেজিত জনতার দাবি মিটার সংযোগ ভুল করে দেওয়া হয়েছে। মিটার সুযোগটি ১০ দিন আগে দেওয়া হয়েছিল। আর্থিং তারে জড়িয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আছিম জোনাল অফিসের এজিএম শফিক আহামেদকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদেন দাখিল করবেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধি/এলএ