Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বে পরিষদ অচল, সেবাবঞ্চিত ইউনিয়নবাসী

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের এই দ্বন্দের কারণে পরিষদের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।

দুই পক্ষের বিরোধের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ইউপি সদস্যরা। দীর্ঘসময়ে অনাস্থা কার্যকর না হওয়া এবং লিখিত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

এমনকি আড়াই বছর ধরে পরিষদে কোনো সভা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ক্ষোভে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে গড়বাড়ী বাজারে প্রতিবাদ সভাও করেন ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের মোট ১২ জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন ১০জন। দুজন মেম্বার মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার সঙ্গে মেম্বারদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তিন দফায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে মেম্বারদের বৈঠক হলেও বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন ইউপি সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন ইউপি সদস্যগণ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত একাধিকবার তদন্তও হয়েছে। 

এদিকে ২০২৭ সালের সাত ফেব্রুয়ারি পরিষদের মেয়াদ শেষ হবার কথা রয়েছে। তবে এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যদের শঙ্কা, তদন্তের নামে সময় পার করতেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইউনিয়নের দরগারবন্দ গ্রামের মোখলেসুর রহমান জানান, তিনি নিজে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান ছিলেন। চারজনকে বরখাস্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়নে আড়াই বছর ধরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না।

ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমরা ১০ জন মেম্বার অনাস্থা দিয়েছি। তদন্ত হয়েছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন ফরায়েজি জানান, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে পরিষদের মেম্বাররা অনাস্থা দিয়েছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। এসবের তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তার অপসারণ ও শাস্তি চান তারা। 

দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লা বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তবে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক পরিচয় বিষয়ে দুলালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আফসার উদ্দিন দেওয়ান জানান, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিএনপির কেউ নন।

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার কালা মিয়া জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন। এতে তাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা না। 

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বে দুলালপুর ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজ করা যাচ্ছে না। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসআই