জেলা প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ বাহিনীর সঙ্গে সামেদ আলী বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হৃদয় ও টেঁটাবিদ্ধ রাজুর নাম পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হৃদয় ও রাজুকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইটভাটায় চলে নিরব চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্য। বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আমলে এসব ইটভাটায় একক নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ওই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
সম্প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে এসে এসব ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে বক্তাবলী খেয়া ঘাটে খিচুড়ি রান্না করে দলবল নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে সামেদ আলীর এলাকা আকবর নগরে মহড়া দিতে যান হালিম আজাদ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এক পক্ষ আরেকপক্ষের ওপর হামলা করেন। এসময় সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন৷
গুলিবিদ্ধ হৃদয় জানান, আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হালিম আজাদ তার থাকা পিস্তল দিয়ে গুলি করে আমাকে। স্থানীয়দের দাবি, ইট ভাটায় চাঁদাবাজি, মাটি ও শ্রমিক সরবরাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি কমিশনভিত্তিক বাণিজ্য চলে আসছে। মাটি সরবরাহ থেকে শুরু করে শ্রমিক সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কমিশন নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামিম হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ