Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে স্বর্ণ ও টাকা লুট

জেলা প্রতিনিধি

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে একই পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে বাড়ির গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা ঘরের শোকেস ভেঙে সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, লুট হওয়া মালামালের মূল্য সাত লাখ টাকার বেশি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের সাহাপাড়ায় সঞ্জয় সাহার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গ্রিল কাটা ও ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

ভুক্তভোগী সঞ্জয় সাহা ওরফে লিটন সাহা জানান, তিনি সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখেন, বাড়ির পেছনের জানালা ও সামনের বারান্দার গ্রিল কাটা। ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

পরে ঘরের শোকেসের ড্রয়ার ভাঙা দেখতে পান তারা। সেখান থেকে তিনটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া কানের দুল, এক জোড়া বাঁধানো শাঁখা, এক জোড়া কানপাশা, দুটি আংটি, দুটি চেইনের লকেট, একটি মঙ্গলসূত্র ও নগদ দেড় লাখ টাকা খোয়া গেছে বলে জানান সঞ্জয় সাহা। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ টাকার বেশি বলে দাবি তার।

সঞ্জয় সাহা ও পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা রাতে খাবার অথবা রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা পানির ফিল্টারের পানিতে কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক পদার্থ মিশিয়ে থাকতে পারে। 

তাদের ভাষ্য, খাবার খেয়ে পরিবারের চার সদস্য অচেতন হয়ে পড়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়ির পেছনের গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। পরে মালামাল নিয়ে সামনের বারান্দার গ্রিল কেটে বেরিয়ে যায় তারা। তবে খাবার বা পানিতে কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষার ফল ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ভাত ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এএইচ