জেলা প্রতিনিধি
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আশিক মাদবর। এবার তাকে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার এ পদায়ন ঘিরে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বিএনপির দুঃসময়ে দলের সঙ্গে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির অনুমতিক্রমে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আশিক মাদবরকে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তার রাজনৈতিক অতীত ও পদায়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আশিক মাদবর ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সেশনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া আশিক মাদবরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক প্রোফাইলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ছবিও তার প্রোফাইলে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আশিক মাদবরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি ইমন সরদারও তাকে ওই সময় থেকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
আশিক মাদবরকে জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের পাশে থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অথচ অন্য রাজনৈতিক সংগঠনে দায়িত্ব পালন করা একজনকে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারা দ্রুত আশিক মাদবরের নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আক্তার মাঝি বলেন, গত মাসে জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়েছে। সেখানে আমাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ভেবেছিলাম, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু আজ দেখলাম, দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন একজনের নাম এসেছে, যিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন। দলের এত ত্যাগী নেতাকর্মী থাকতে কীভাবে অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা একজনের নাম কমিটিতে আসে? এটা আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারি না। অনতিবিলম্বে তার নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে আশিক মাদবরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, ছেলেটি শিক্ষিত ও ভদ্র। তার যোগ্যতা বিবেচনা করেই কেন্দ্র থেকে তাকে দপ্তর সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন, এমন তথ্য আমি শুনিনি।
আশিক মাদবরের ফেসবুক প্রোফাইলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ছবি ও ভিডিও থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, এগুলো হয়তো কেউ এআই দিয়ে তৈরি করতে পারে।
অভিযোগ ও পদায়ন নিয়ে বক্তব্য জানতে আশিক মাদবরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিনিধি/এলএ