জেলা প্রতিনিধি
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বিধবা মহিলাকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী আছিয়া খাতুন (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৫ সন্তানের জননী ঐ নারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফুলবাড়ীয়া থানার এস আই মিজানুর রহমান।
ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নাম করে বিয়ের কাবিননামা করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলয় বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে, ভুক্ত ভোগী ঐ নারীর ৫ সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে দুই সন্তানক বিয়ে করানোর পর নাতিন রয়েছে ঐ নারীর।
একই গ্রামের শাহা আলীর পুত্র ৬৪ বছরের বয়স্ক আব্দুল কদ্দুছ ভুক্তভোগী ঐ মহিলার দ্বিতীয় ছেলে আসাদুল ইসলামের উকিল শ্বশুর হিসাবে তার বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। আব্দুল কুদ্দুছ একাধিকবার স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তারের মাধ্যমে বিধবা আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি প্রস্তাব নাকচ করেছেন।
মাস দেড়েক আগে আব্দুস ছাত্তার বর্তমান সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে কৌশলে পাটুলী পাঞ্জুর বাজারে তার দোকানে নিয়ে নিরক্ষর আছিয়া বেগমের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেন। কয়েকদিন পর একটি খাতায় দুটি টিপসইও নেন।
সম্প্রতি বিধবা আছিয়া ও আব্দুল কুদ্দুছ বিয়ে করেছেন- এমন একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে গ্রামে প্রচার করেন ছাত্তার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিলা স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেন। এ নিয়ে গ্রামে তিনবার গ্রাম নালিশ হয়। গ্রাম শালিসে আব্দুল কুদ্দুছ ও আব্দুল ছাত্তার হাজির না হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে জানান বাজার কমিটির সভাপতি আকবর আলী তালুকদার।
গ্রাম শালিসে বিচার না পেয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আব্দুছ ছাত্তার ও আব্দুল কদ্দুছকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারী আছিয়া খাতুন। তিনি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। সন্তান নাতীসহ আত্নীয় স্বজন রয়েছে। আমি এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।
মরা ছাড়া আমার কোনও উপায় নাই। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নাম করে যারা আমার মানসম্মান দিয়ে খেলা করছে আমি তাদের বিচার চাই।
আছিয়া খাতুনের দ্বিতীয় সন্তান আসাদুল ইসলাম জানান, আমার মার বয়স হয়েছে। প্রতারণা করে আমার মার নামে বদনাম রটানো হচ্ছে। সমাজে এখন আমাদের মুখ দেখানো কঠিন হয়ে গেছে। আমরা ঘটনার জন্য প্রকৃততদের বিচার চাই।
এলাকাবাসী জানান, আব্দু ছাত্তার জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি নিজেকে ৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারী দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামীম জানান, ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তার দাবি, আবদুস ছাত্তার জামায়াতের নিয়মিত পদধারী কোনো নেতা নন। নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপি করতেন বলেও জানান তিনি।
ফজলুল হক আরও বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে আমাদের ধারণা। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের আইন অনুযায়ী বিচার হোক। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
থানায় অভিযোগ দেয়ার পর থেকে আব্দুল কদ্দুছ ও আব্দুল ছাত্তার গাঁ ঢাকা দিয়েছে। তাদের সাথে কথা বলা যায়নি।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীয়া থানার এস আই মিজানুর রহমান জানান, আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি পুটিজানা ইউনিয়নের বিট অফিসার হওয়ায় তদন্ত করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রতিনিধি/এআরএম