Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে ‘গুল খাইয়ে’ হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর তামাকজাত বিষাক্ত উপাদান ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরে মো. জিল্লুর মোল্যা নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রায় সাড়ে সাত বছর পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মো. জিল্লুর মোল্যা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যা বিয়ে করার পর থেকেই তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।

২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পর দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং স্ত্রীকে বিষজাতীয় পদার্থ খাইয়ে হত্যা করেছে জিল্লুর।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে ‘গুল’ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতামতে উল্লেখ করা হয়, বিষক্রিয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর ধরন ছিল হত্যাজনিত।

মামলাটি তদন্ত করেন আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন। তদন্ত শেষে তিনি জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জিল্লুর মোল্যাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

প্রতিনিধি/এমআর