Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মৌলভীবাজারে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হলো এক হালি কমলা

জেলা প্রতিনিধি

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

সাধারণত এক হালি কমলার দাম খুব বেশি হলে দুই শ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে নিলামে সেই এক হালি কমলার দাম উঠেছে ৫০ হাজার টাকা! শেষ পর্যন্ত এই দামেই কমলাগুলো কিনেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। মাদরাসার ধর্মীয় কার্যক্রমে সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই তিনি এই দাম দিয়ে কমলাগুলো কিনেছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসার ওয়াজ মাহফিলে সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে কমলাগুলো কেনেন এই প্রবাসী। মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী। রাত প্রায় ১টার দিকে তার বয়ান শেষে মাদরাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মরিচা মাদরাসা প্রাঙ্গণে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বয়ান শেষে মাদরাসার পক্ষ থেকে কমলাগুলো নিলামে তোলা হলে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

এসময় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পুরো ওয়াজসহ নিলাম পর্ব লাইভ চলছিল। নিলামের একপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে চারটি কমলা কেনেন আব্দুল মালিক রুকন।

moulovobazar-2ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী শ্রোতারা বলেন, মাহফিল শেষে দোয়ার আগে কমলাগুলো নিলামে তোলা হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। নিলামে যারা অংশ গ্রহণ করেছেন সবার উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয়।

নিলামে কমলা কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, ‘আমার বাবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে কমলাগুলো কিনেছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সবসময় পাশে থাকেন। মাদরাসার পক্ষ থেকে এই মাহফিলগুলো করা হয় সবাই যেনো সহযোগিতা করেন।’

মরিচা মাদরাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদরাসার সহযোগিতার কথা চিন্তা করে কয়েকবছর ধরে ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলাম করা হয়। এবার চারটি কমলা নিলামে তোলা হলে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও আধা কেজি খেজুর ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। মূলত এই ফলগুলো এত দামে বিক্রি হওয়ার কারণ হলো মাদরাসায় সহযোগিতা করা। যারা ফল কিনেছেন তিনি আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী।

প্রতিনিধি/এমআর