জেলা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
রাঙামাটিতে ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাইবার ক্রাইম সেলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকাশে ভুল নম্বরে পাঠানো ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের মসজিদ মার্কেট এলাকায় ১৮ এপিবিএনের কনফারেন্স রুমে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অর্থ হস্তান্তর উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাটালিয়নের সহ-অধিনায়ক মো. এনায়েত করিম। এ সময় ব্যাটালিয়নের পুলিশ পরিদর্শক ও সাইবার ক্রাইম সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৮ এপিবিএন মোট ৪২৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে কাজ করেছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিকাশে ভুলবশত অন্য নম্বরে পাঠানো ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রযুক্তিগত ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দুজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সহায়তা এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে একজন নাগরিককে জরুরি সেবা দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন উদ্ধারের একটি ঘটনা তুলে ধরে জানানো হয়, মো. আল-আমিনের প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন চট্টগ্রাম থেকে ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় তিনি রাঙামাটি সদর থানায় জিডি করেন এবং জিডির কপি ১৮ এপিবিএনের সাইবার ক্রাইম সেলে জমা দেন। পরে জিডির তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনটি উদ্ধার করে সাইবার ক্রাইম সেল।

ফোনটি ফিরে পেয়ে আল-আমিন বলেন, ১৮ এপিবিএনের সাইবার পুলিশ ফোন করে তার ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারের খবর দেওয়ার পর তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই ফোনটি ফিরে পাওয়ায় তিনি সাইবার ক্রাইম সেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যদিকে মো. আরিফুল ইসলাম তার ছোট ভাইকে বিকাশে এক হাজার টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল করে অন্য একটি নম্বরে পাঠিয়ে দেন। টাকা পাওয়া ব্যক্তি পরে বিষয়টি অস্বীকার করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিলে আরিফুল সাইবার ক্রাইম সেলের শরণাপন্ন হন। সাইবার টিমের পরামর্শ অনুযায়ী থানায় জিডি করে এর কপি জমা দেন তিনি। পরে প্রযুক্তিগত ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওই টাকা উদ্ধার করে আরিফুলের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
টাকা ফেরত পেয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, টাকা ফেরত পাবেন বলে তিনি আশা করেননি। তবে ১৮ এপিবিএনের সাইবার ক্রাইম সেলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কোনো খরচ ছাড়াই টাকা ফিরে পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. রেজাউল করিম বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্পত্তি রক্ষা করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যম ও মোবাইল-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে ১৮ এপিবিএনের সাইবার ক্রাইম সেল নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/এসএস