জেলা প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। আজ ৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে ইতোমধ্যে নৌকা ও জাল গুটিয়ে ডাঙায় তুলেছেন চাঁদপুরের জেলেরা। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউ আবার ছেঁড়া জাল সংস্কারে ব্যস্ত। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সও প্রস্তুতি নিয়েছে।
আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার, শহরের যমুনা রোডের টিলাবাড়ি, পুরানবাজারের রনাগোয়াল ও দোকানঘর এলাকা, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের রামদাসদী ও বহরিয়া এবং হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন জেলেপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আনন্দবাজার এলাকায় অধিকাংশ জেলেকে নৌকা ডাঙায় তুলে রাখতে দেখা যায়। কেউ কেউ নৌকা মেরামত করছেন। বহরিয়া বাজারেও একই চিত্র। রামদাসদী এলাকায় জেলেরা জাল মেরামতে ব্যস্ত। আর হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকটি নৌকা মেরামত করতে দেখা গেছে মিস্ত্রিদের।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে আলমগীর বলেন, এবার নদীতে তেমন ইলিশ পাননি। তাই আগেই নৌকা ডাঙায় তুলে রেখেছেন। নদীতে ইলিশের অবস্থান বুঝে ২২ দিন পর আবার নৌকা নামাবেন।

রামদাসদী এলাকার জেলে শাহজাহান ব্যাপারী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর সরকার অভিযান পরিচালনা করে। তবে পরিকল্পনার ঘাটতি থাকায় অনেক সময় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় না। মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে নৌ পুলিশের পাহারা থাকলে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরতে পারবে না।
একই এলাকার জেলে জামাল হোসেন বলেন, তাদের এলাকার জেলেরা গোল্টি জালে ইলিশ ধরেন। এতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু প্রজনন মৌসুমে মৌসুমি কিছু জেলে নদীতে নামেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। নিষেধাজ্ঞার সময়ে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন।
হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন জেলেপাড়ার জেলে আমজাদ আলী বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারা নদীতে নামে, তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক লোকজন জানেন। এসব জেলেকে নদীতে নামা থেকে বিরত রাখতে পারলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে এবং ইলিশের উৎপাদনও বাড়বে।
বহরিয়া এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, নিরাপদে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য তাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে চাঁদপুর ছাড়াও শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের জেলেরা তাদের নৌসীমানায় এসে মা ইলিশ ধরেন। বাইরের জেলার জেলেরা যাতে এখানে এসে মাছ ধরতে না পারেন, সে বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকার ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে অভিযান পরিচালনা করছে। তার মতে, অভয়াশ্রম এলাকার আগেই সাগরের মোহনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ সেখানেই অধিকাংশ মা ইলিশ ধরা পড়ে বাজারে চলে যায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে একাধিকবার সমন্বয় সভা হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ মা ইলিশ শিকার না করেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুর ইসলাম বলেন, চাঁদপুরের নৌ-সীমানার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা নিবন্ধিত ৪১ হাজার জেলেকে ইতোমধ্যে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস