জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হাটের নির্ধারিত হাসিল দেওয়ার পরও এক তরুণ কৃষককে মারধর ও তার মুঠোফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে আক্কেলপুর পৌর এলাকার কলেজ বাজারের ২ নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা হাট অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে ৪৫ কেজি কচুর বই (কচুর মুখি) বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের ২ নম্বর গেটে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তার পথ রোধ করে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। রাকিব ২৫ টাকা হাসিল দিয়ে চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর তাকে ধরে এনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় ধস্তাধস্তিতে রাকিবের হাতে থাকা মুঠোফোন মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।
ঘটনার পর রাজকান্দা এলাকা থেকে আসা কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে কৃষকদের একটি দল বাজারের হাট অফিসে গিয়ে তা ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে কৃষকেরা শান্ত হন।
স্থানীয় কৃষকদের একাংশের অভিযোগ, কলেজ বাজারে হাসিল আদায়ের কোনো মূল্যতালিকা টাঙানো নেই। এর সুযোগ নিয়ে ইজারাদারের কর্মীরা মনগড়া টাকা আদায় করছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা—যেকোনো এক পক্ষের কাছ থেকে হাসিল নেওয়ার বিধান থাকলেও ইজারাদারের কর্মীরা উভয় পক্ষের কাছ থেকেই জোর করে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী কৃষক রাকিব হাসান বলেন, তিনি ৪৫ কেজি কচুর বই বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। প্লাবন তার কাছে ৪০ টাকা হাসিল চান। তিনি ২৫ টাকা দিয়ে চলে যেতে চাইলে তাকে আবার ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মুঠোফোন ভেঙে গেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হাসিলের টাকা কম দিয়ে চলে যাওয়ার সময় তা দাবি করায় তর্কাতর্কি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।
কলেজ বাজারের হাট ইজারাদার বাবলু চৌধুরী বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি শুনেছেন, ক্ষুব্ধ লোকজন হাট অফিসে গিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে এবং তার ওপর হামলা চালিয়ে আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে গেছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। হাটের প্রতিটি দৃশ্যমান স্থানে হাসিল আদায়ের সরকারি মূল্যতালিকা টাঙানোর জন্য ইজারাদারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
প্রতিনিধি/এআর