জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মায়ের জন্য ঘর নির্মাণ ও তার কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সেই ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ওই অর্থ অবমুক্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত অর্থ অবমুক্তির চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে ৫ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্রে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২ সহ প্রচলিত আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে অর্থ ব্যয় করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে প্রয়োজন হলে আরও অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আবু সাঈদের পরিবার। একইসঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার ঘরবাড়ি এবং কবরস্থানসহ নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন সঠিকভাবে কাজ হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি শহীদ পরিবারের সদস্যদের।
প্রতিনিধি/এফএ