জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
লালমনিরহাটে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৃথক আদালতে দেওয়া রায়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অপর একটি হত্যা মামলায় মো. দুলাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মো. আতিকুল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা। স্ত্রী মিতু আক্তার হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো. হায়দার আলী। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিতুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতিকুল ইসলাম মিতুর মাথায় ঘুষি মারেন। পরে কিল-ঘুষি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মিতুর মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে বাড়ির একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের আদেশে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
অন্যদিকে, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এ অপর একটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ওই মামলায় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী মোগলীবাড়ী এলাকার মো. দুলাল হোসেনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, এটি আসামির প্রথম অপরাধ এবং তিনি চরমভাবে অনুতপ্ত। আসামির বয়স, পারিবারিক ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা ও সাময়িক উত্তেজনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে আটক থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী হাজতবাসের সময় তার বর্তমান সাজা থেকে বাদ যাবে। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুল আলম মিলন বলেন, দুটি মামলার রায়েই রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে স্ত্রী হত্যার মামলায় আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর হত্যা মামলায় দুলাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে লালমনিরহাটের পৃথক দুটি আদালতে দুই হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমের নিষ্পত্তি হলো।
প্রতিনিধি/এসএস