Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সবজি চারা উৎপাদনে ৪০ কোটির হাতছানি, সার-বীজের সংকটে বিপাকে কৃষক

জেলা প্রতিনিধি

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ এএম

বগুড়ার শাজাহানপুরে সবজি চারা উৎপাদন ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। উপজেলার শাহনগর, বড়পাথার ও কামারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক নার্সারি। এসব নার্সারি থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার সবজির চারা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের কাছে এসব চারা পৌঁছে গেলেও সার ও বীজের বাড়তি দাম এবং সরবরাহ সংকটে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরজমিনে দেখা গেছে, শাহনগর, বড়পাথার ও কামারপাড়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি নার্সারি। ছোট ছোট বেডে বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, লালশাক, পুঁইশাক, মুলা, পালংসহ বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজির চারা। কোথাও শ্রমিকরা চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, শাজাহানপুরের এসব গ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই সবজি চারা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা এখান থেকে চারা কিনতে আসেন। চাহিদা থাকায় প্রতি বছর নার্সারির সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়ছে।

নার্সারি মালিকরা জানান, বীজ বপন, পানি দেওয়া, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ প্রতিটি ধাপে বাড়তি যত্ন নিতে হয়। নির্দিষ্ট সময় পর চারা তুলে প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। তবে সার ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

002

একজন নার্সারি মালিক বলেন, সারের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। চারার দাম বাড়ালে কৃষক কিনতে চান না, আবার দাম না বাড়ালে আমাদের লোকসান হয়। সার ও বীজের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলে আমরা আরও বেশি চারা উৎপাদন করতে পারব।

আরেক উদ্যোক্তা বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদন করি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা এসে চারা নিয়ে যান। চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় নার্সারি মালিকদের হিসাবে, প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। ফলে এই খাত স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

চারা কিনতে আসা এক কৃষক বলেন, এখানকার চারার মান ভালো। আগে কয়েকবার নিয়ে চাষ করেছি, ফলনও ভালো পেয়েছি। তাই এবারও এখান থেকেই চারা কিনতে এসেছি।

আরেক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় সব ধরনের চারা পাওয়া যায় না। এখানে অনেক জাতের চারা পাওয়া যায় এবং মানও ভালো। তাই দূর থেকে এসেও এখান থেকে চারা নিয়ে যাই।

নার্সারি মালিকরা জানান, ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করে এসব চারা উৎপাদন করা হয়। তবে উৎপাদন আরও বাড়াতে মানসম্মত বীজ ও সারের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাদের দাবি, সার ও বীজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়ার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহফুজ আলম বলেন, চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা নার্সারি মালিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। মানসম্মত বীজ ব্যবহার, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ