জেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম
একটি ভালো সড়ক শুধু দুই প্রান্তকে যুক্ত করে না, বদলে দেয় একটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। যাতায়াতের দুর্ভোগ কমায়, শিক্ষার্থীদের পথ সহজ করে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনে। তেমনই এক পরিবর্তনের গল্প এখন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শাকির মোহাম্মদ বাজার থেকে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে পর্যন্ত ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার সড়ককে ঘিরে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দে প্লাট-২০২২ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংস্কারের পর পাল্টে গেছে সড়কটির চেহারা। এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে যানবাহন, নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কটি যেন স্থানীয় মানুষের চলার পথের পাশাপাশি স্বস্তিরও পথ হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, সড়কের শুরুতেই রয়েছে শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়, শাকির মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শাকির মোহাম্মদ দাখিল মাদরাসা। প্রতিদিন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করে। আবার সড়কের শেষ প্রান্তে রয়েছে বড়কোটা জনকল্যাণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বড়কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়কোটা বাজার। ফলে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং আশপাশের গ্রামের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
একসময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে চলাচলে দুর্ভোগ থাকলেও সংস্কারের পর সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন ছোট-বড় যানবাহন সহজে চলাচল করছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদরাসায় যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বস্তিতে বাজার-ঘাটে যেতে পারছেন।
শিক্ষার্থী নাছিমা আক্তার বলেন, সড়ক সংস্কার হওয়ায় গাড়িতে যাতায়াত করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। আগে সড়কের কারণে চলাচলে সমস্যা হতো। এখন অনেক স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছি।
তার মতো অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সড়ক সংস্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভালো সড়ক থাকায় সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে এবং যাতায়াতের কষ্টও কমেছে।
বড়কোটা বাজারে বাজার করতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, সড়ক সংস্কার হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। বাজারে আসা-যাওয়া এখন সহজ। আগে যেখানে সময় ও কষ্ট বেশি লাগত, এখন তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারছি। এজন্য সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
গাড়িচালক সুজন মিয়া বলেন, সড়ক সংস্কার হওয়ায় বিরাট উপকার হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় আগের মতো সমস্যা হচ্ছে না। এখন নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি সড়কের সংস্কার পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে- এই সড়কটি তারই উদাহরণ। সড়কটি ভালো হওয়ায় শুধু যাত্রী চলাচল নয়, বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও সুবিধা তৈরি হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সহজে তাদের পণ্য বাজারে নিতে পারছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামের মানুষের উপজেলা ও মহাসড়কমুখী যোগাযোগও সহজ হয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের যাতায়াত হয়, তাদের জন্য সংস্কার করা সড়কটি বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত ও সংস্কার করা এ সড়কের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সড়কটির স্থায়িত্ব আরও বাড়বে।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে শাকির মোহাম্মদ বাজার থেকে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে পর্যন্ত সড়কটি এখন নতুন রূপে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের দৈনন্দিন চলাচলে এটি হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ এক যোগাযোগপথ। সড়কের পিচঢালা পথের সঙ্গে যেন বদলে গেছে মানুষের চলার ছন্দও-দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন স্বস্তির যাত্রায় এলাকাবাসী।
প্রতিনিধি/এলএ