উপজেলা প্রতিনিধি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ এএম
যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের একজন কৃষক আবুল কাশেম। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকাল থেকে ব্যস্ত ছিলেন শিকারপুরের মাঠে। সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে করতে কখন যে দুপুর হয়ে গেছে, সেদিকে খেয়াল নেই তার।
দুপুর ১২টার দিকে শরীরের ক্লান্তি যেন আর মানতে চাইছিল না। কাজ থামিয়ে মাঠের মধ্যে একটি আমগাছের নিচে চলে আসেন আবুল কাশেম। সঙ্গে থাকা বস্তাটি মাটিতে বিছিয়ে তার ওপরই শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
শিকারপুরের মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কৃষক আবুল কাশেমের এই ছবিটিই যেন বলে দিচ্ছে তার প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধের কথা। মাথার নিচে বালিশ নেই, নেই আরামদায়ক কোনো বিছানা। রোদ থেকে বাঁচার জন্য আমগাছের ছায়া আর বিশ্রামের জন্য একটি বস্তাই তার ভরসা।
কৃষক আবুল কাশেম বলেন, আশ্বিন মাস চলছে। গ্রীষ্ম শেষ হয়ে এখন শীতের আবহাওয়া আসতে শুরু করেছে। সকাল থেকে সবজি জমিতে কাজ করেছি। সারাদিন কাজ করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই দুপুরে এই আমগাছের নিচে এসে একটু বিশ্রাম নিই, কখনো ঘুমিয়েও পড়ি। ঘুম থেকে উঠে আবার জমিতে কাজ করি।
মাঠে কাজ করা অন্য কৃষকদেরও একই চিত্র। সকাল হলেই হাতে কৃষিকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তারা ছুটে যান জমিতে। ফসলের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, পানি দেওয়া— নানা কাজে কেটে যায় দিনের বড় একটা সময়। দুপুরে কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসেই চলে সামান্য বিশ্রাম।
তবে আবুল কাশেমের ঘুমন্ত ছবিটি চোখে পড়ার মতো। চারপাশে সবুজ সবজি ক্ষেত, তার মাঝেই আমগাছের ছায়ায় একটি বস্তার ওপর ঘুমিয়ে আছেন একজন কৃষক। কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙবে, আবার তাকে নেমে পড়তে হবে জমির কাজে।
শিকারপুর গ্রামের এই কৃষকের দুপুরের ঘুম তাই শুধু বিশ্রামের দৃশ্য নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে মাঠে থাকা একজন কৃষকের নীরব পরিশ্রমের গল্প।
প্রতিনিধি/এলএ