Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

এক ফ্রেমে নদী-সাগর-পাহাড়: পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ

জেলা প্রতিনিধি

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ এএম

একদিকে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে নাফ নদী। মাঝখানে সবুজে ঘেরা পাহাড় আর সীমান্তঘেঁষা জনপদ- প্রকৃতির এমন অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা। নদী, সমুদ্র ও পাহাড়ের একসঙ্গে দেখা মেলায় পর্যটকদের কাছে ধীরে ধীরে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে এ স্পট ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে শাহপরীর দ্বীপ জেটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ও শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি। জেটির শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনেকে নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করছেন। কেউ কেউ ব্যস্ত ছবি ও ভিডিও ধারণে। জেটির বড় একটি অংশ নাফ নদীর পানির ওপর বিস্তৃত হওয়ায় সেখানে দাঁড়ালে মনে হয়, যেন নদীর বুকেই অবস্থান করছেন দর্শনার্থীরা।

শাহপরীর দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একই স্থান থেকে নদী, সমুদ্র ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ। পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি নৌকা, পূর্বে নাফ নদী আর ওপারে মিয়ানমারের সবুজ পাহাড়— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। এর সঙ্গে জেলেপল্লী, মাছ ধরার ট্রলার এবং জেলেদের কর্মব্যস্ত জীবন যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

002

আকাশ পরিষ্কার থাকলে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আভাসও দেখা যায়। ফলে প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের কাছেও জায়গাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

নাফ নদীতে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। সমুদ্রসৈকতে অনেকবার গিয়েছি, তবে নাফ নদীতে এসে একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর বুক থেকে ওপারে মিয়ানমারের সুউচ্চ পাহাড় দেখার দৃশ্যটি দারুণ উপভোগ করছি। 

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, সীমান্তঘেঁষা এই এলাকা আমাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। নাফ নদী, ছোট নৌকা আর পাহাড়ঘেরা পরিবেশ শিশুদেরও বেশ আনন্দ দিচ্ছে। 

চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, শহরের কোলাহল থেকে দূরে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি এনে দেয়। নদী, পাহাড় ও সমুদ্র একসঙ্গে দেখার সুযোগ এখানে পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানায়, শাহপরীর দ্বীপে দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়ক নির্মাণের পর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি জেটি ও মেরিন ড্রাইভ ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের পাড়ে সারি সারি রঙিন নৌকা, পাহাড় ও সবুজ বেষ্টনীও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

003

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, পর্যটকদের কাছে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে টেকনাফের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। এখানে একই সঙ্গে সমুদ্র, পাহাড় ও নাফ নদীর সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নাফের মাঝপথে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফের জালিয়াপাড়া সীমান্তের জেটি দুটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে জেটিগুলোকে পরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে সাজানো প্রয়োজন। 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সরকার এখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব সময় কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, নাফ নদীর মাঝখানে নির্মিত জেটিগুলো এরই মধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেটির মাধ্যমে নদের মাঝামাঝি পর্যন্ত যাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মিয়ানমারের পাহাড়ও দেখা যায়। প্রতিদিনই জেটিতে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার জেটি দুটি টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করলেও এখন সেগুলো নতুন একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। ফলে আমরাও পর্যটকদের সুবিধার্থে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। 

প্রকৃতির বৈচিত্র্য, সীমান্তঘেঁষা পরিবেশ এবং নদী-সমুদ্র-পাহাড়ের একসঙ্গে দেখা মেলায় শাহপরীর দ্বীপ এখন টেকনাফের পর্যটন মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পরিকল্পিত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই জনপদ দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিনিধি/এলএ